বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে চীন সম্মতি জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ৭ কোটি মানুষের উপকারের লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা অন্য যে নামেই হোক, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, চীনের রাষ্ট্রপতির পানি সম্পদ বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান রয়েছে। তিনি এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘তাঁরা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে রয়েছেন। বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় যা কিছু দরকার চীন সরকার তা করবে।’
বিএনপি সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলেও দাবি করেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ভালো কাজের মাধ্যমে সরকার প্রতিশোধ নেবে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
দেশের নদীভাঙন পরিস্থিতি তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদীর তীরে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাঁদের অনেকেই প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের শিকার হচ্ছেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আবারও একসঙ্গে কারাগারে যেতে হবে কি না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁরা আজ সংসদে এসেছেন এবং সামনে এগিয়ে যেতে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।
অতীতের কারাজীবনের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সামনে উপস্থিত বিরোধীদলীয় নেতা কাশিমপুর জেলখানার কথা তো মনে পড়ে, একসঙ্গেই তো ছিলাম, ভিন্ন তো ছিলাম না। নামাজ পড়েছি, খাওয়া-দাওয়া করেছি, আলোচনা করেছি এবং ফ্যাসিস্ট থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কৌশল নির্ধারণ করেছি। আবার যাব?’
এরপর তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ! আবার আমাদের যেতে (জেলে) হবে না। কারণ এ দেশের মানুষ তারেক রহমানের সঙ্গে আছে। এ দেশের মানুষ প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে ছিল, এ দেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছিল।’