Ridge Bangla

বড় পর্দায় ব্রাজিলের খেলা দেখানোর প্রস্তুতিকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তরুণের মৃত্যু

পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় গ্রামবাসীর জন্য বড় পর্দায় ব্রাজিল ফুটবল দলের খেলা দেখানোর আয়োজন করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন জহিরুল ইসলাম (২৪) নামে এক তরুণ। দুর্ঘটনার এক দিন পর সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের হরতকিবাড়িয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রাজিলের খেলা দেখানোর জন্য মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আয়োজনের অংশ হিসেবে বিদ্যুতের সংযোগ দিতে গিয়ে জহিরুল ইসলাম অসাবধানতাবশত রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়া উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসেন। এতে তিনি গুরুতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তার শরীর ঝলসে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জহিরুল ইসলাম হরতকিবাড়িয়া গ্রামের আলোতাজ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন এবং বিদ্যুতের কাজ করেই পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।

জানা গেছে, তার পরিবারে স্ত্রী জাকিয়া আক্তার ও ৫ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত জাকিয়া আক্তার বলেন, “আমার স্বামী ব্রাজিলের খুব ভক্ত ছিল। গ্রামের সবাই যেন একসঙ্গে খেলা দেখতে পারে, সেই জন্য বড় পর্দার ব্যবস্থা করছিল। বিদ্যুতের লাইন দিতে গিয়েই সে আর ফিরে আসল না। আমার এই ছোট্ট ছেলেটাকে নিয়ে এখন কোথায় যাব, কীভাবে সংসার চালাব-কিছুই বুঝতে পারছি না।”

নিহতের বাবা আলোতাজ মিয়া বলেন, “আমি ঢাকায় ছিলাম। হঠাৎ মোবাইল ফোনে খবর পাই, আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। খবর শুনেই দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসি। এমন মৃত্যু কোনো বাবা যেন না দেখে।”

ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত জহিরুলের মা বলেন, “মৃত্যুর সময় আমার বাবার কত কষ্ট হইছে! সারা গায়ে আগুন জ্বলছিল। আশপাশের মানুষ অনেক চেষ্টা করলেও আমার বাবারে আর বাঁচাইতে পারে নাই।”

গ্রামবাসীর ভাষ্য, জহিরুল ছিলেন পরিশ্রমী, ভদ্র ও খেলাপ্রেমী। ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ ছিল। কয়েক দিন আগেও তিনি নিজ উদ্যোগে এলাকায় ব্রাজিল দলের ব্যানার ও পোস্টার টানিয়েছিলেন। তবে প্রিয় দলের খেলা দেখানোর আয়োজনই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ উদ্যোগ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, “ছেলেটি খুব ভালো ছিল। এলাকার মানুষের জন্য খেলা দেখানোর আয়োজন করতে গিয়ে নিজের জীবন দিল। এই অসহায় পরিবারটির পাশে সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দাঁড়ানো উচিত। পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্রাজিল দূতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রতিও অনুরোধ থাকবে, তারা যেন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।”

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন