গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মে মাসের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
এএফপি জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিআর কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৬১টি নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেশী উগান্ডায় আরও ২ জনের মৃত্যু হলেও সেখানে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। দেশটিতে মোট ২০টি নিশ্চিত সংক্রমণের মধ্যে ১৬ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।
ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে এ প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৩২ শতাংশ।
এ পর্যন্ত ২৫৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি ইবোলার উপসর্গ নিয়ে আরও ৩৫৪টি সন্দেহভাজন ঘটনার তদন্ত চলছে।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শুরু হওয়া এ প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে ৪টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ইতুরি প্রদেশ।
স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানিয়েছে, এ প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। এই প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
তবে সম্ভাব্য ২টি চিকিৎসাপদ্ধতির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা বৃহস্পতিবার ডিআর কঙ্গোতে শুরু হয়েছে। এতে এককভাবে এবং সমন্বিতভাবে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এমবিপি১৩৪ ও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভিরের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ইবোলায় নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ অতিক্রমের খবর এমন সময়ে এলো, যখন গত বছর গৃহীত ঐতিহাসিক মহামারি চুক্তির অসমাপ্ত বিষয়গুলো নিয়ে আবারও আলোচনায় বসেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলো। কোভিড-১৯ মহামারির সময় বৈশ্বিক সমন্বয়ের ঘাটতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সোমবার সদস্য দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, “পরবর্তী মহামারি আমাদের প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা করবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এ মুহূর্তে ডিআর কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবই তার প্রমাণ। এটি কোনো নীতিপত্রে উল্লেখ করা দূরবর্তী বা কাল্পনিক পরিস্থিতি নয়; এটি এখনই ঘটছে।”
আরও এক সতর্কবার্তায় তিনি বলেন, “ইবোলাই হয়তো পরবর্তী মহামারি হবে না। কিন্তু এটি আমাদের বেদনাদায়কভাবে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এ ধরনের হুমকি কখনোই পুরোপুরি দূর হয়ে যায় না।”
খনিজসম্পদসমৃদ্ধ হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতায় অস্থিতিশীল ইতুরি প্রদেশে কয়েকটি রহস্যজনক মৃত্যুর পর গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গোতে এটি ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং শরীরের তরলের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ডিআর কঙ্গো থেকে ফ্রান্সে গিয়ে ইবোলায় আক্রান্ত হওয়া দেশটির প্রথম রোগী, একজন চিকিৎসক, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে শনিবার জানিয়েছেন ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ওই চিকিৎসকের শরীরে ২৩ জুন ডিআর কঙ্গো থেকে ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল।