Ridge Bangla

টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত সেই ‘মা’ হাতির মৃত্যু

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে খাদে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি মা হাতির মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে হাতিটি মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর প্রায় ৩টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

বন বিভাগ, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি), প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত চেষ্টায় রাতভর চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাতিটি প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল। এতে তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং পেটে গুরুতর আঘাত লাগে। সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হলেও আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। ফলে শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় লতাপাতা খাওয়ার সময় হাতিটির পা পিছলে নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর সেটি আর দাঁড়াতে পারেনি। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। পরে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. মোস্তাফিজের নেতৃত্বে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে হাতিটির নিবিড় চিকিৎসা চালানো হয়।

বন বিভাগ জানায়, মৃত হাতিটির আনুমানিক বয়স ৪০ বছর। পাহাড় থেকে পড়ে তার মেরুদণ্ড ও পেছনের পা ভেঙে যাওয়ায় সেটি সম্পূর্ণভাবে চলাচলের সক্ষমতা হারায়। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আঘাতও ছিল গুরুতর, যা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে।

এ বিষয়ে জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাতিটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, খবরটি জানার পর প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন, হাতিটির চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের অবহেলা না হয়।

তবে বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর হাতিটি মারা যায়। বন বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে হাতিটির মরদেহ বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হবে।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন