Ridge Bangla

জুলাই শহীদের অনুদানের অর্থে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, অস্বীকার বাবার

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবার বিরুদ্ধে শহীদ পরিবারের অনুদানের অর্থ দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন শহীদের মা মমতাজ বেগম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন দাবি করেছেন, নিজের সামর্থ্যেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

মোহাম্মদ আব্দুল মতিন রাজধানীর মতিঝিলে একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তাঁর প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামের এ দম্পতির একমাত্র ছেলে ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। তাঁদের ১০ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর আব্দুল মতিন ও মমতাজ বেগমের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, শহীদ পরিবারের অনুদানের অর্থ থেকে ৭ লাখ টাকার কাবিন এবং সোয়া ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দিয়ে গত ২৯ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মতিন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এ ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মমতাজ বেগম। গত ২ জুন মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে স্বজনরা তাঁকে নিবৃত্ত করেন।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছাত্রজনতার আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে গুলিবিদ্ধ হন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।

মমতাজ বেগম বলেন, “সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে উঠার আগেই আমার অনুমতি ছাড়াই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমার জানামতে বিয়েতে সোয়া ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কেনার সামর্থ্য তার নেই। আমার শহীদ ছেলের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই সরকারের দেওয়া অনুদানের টাকায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর পর থেকেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। তিনি বারবার বলেছিলেন, আমার বংশ রক্ষার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করতে হবে।”

মমতাজ বেগমের অভিযোগ, আব্দুল মতিন শহীদ ছেলের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “শহীদ পরিবারকে দেওয়া সরকারি বরাদ্দের এককালীন ৩০ লাখ টাকা তিনি আমার সই জালিয়াতি করে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি সচেতন থাকায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুধু তাই নয়, আমার শহীদ ছেলের নাম ভাঙিয়ে আব্দুল মতিন বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আমার এখন একটাই চাওয়া, মেয়েটাকে বড় করার আগে যেন আল্লাহ আমাকে নিয়ে না যায়। এ ঘটনার আমি সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মতিন বলেন, “আমার বংশ রক্ষার জন্য আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। বিশেষ করে আমার মায়ের অনুরোধে আমি বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি। এছাড়া বিয়ে করার আগে প্রথম স্ত্রী আমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এখন তা অস্বীকার করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আলফা গ্রুপের মতিঝিল শাখায় সেলস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছি। বিয়ে করার মতো সামর্থ্য আমার আছে। ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে বিয়ে করতে হবে, বিষয়টি এমনও নয়। বিয়ে করার পর আমি প্রথম স্ত্রীকে আনতে পাঁচবার বাসায় গিয়েছি। মেয়ের সঙ্গেও দেখা করতে পারিনি। সবশেষ অন্য একজনের মাধ্যমে তাদের বাসায় প্রবেশ করি। কিন্তু আমাকে অসম্মান করে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি।”

তবে নববধূর নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

জুলাই যোদ্ধা রুহুল আমিন রিপন বলেন, “একজন জুলাই শহীদের বাবা হয়ে মতিন সাহেব যে কাজটি করেছেন তা মোটেও উচিত হয়নি। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, “জুলাই শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি শুনেছি। তবে, বিষয়টি মেনে নেওয়ার মতো না। ছেলেকে যদি সত্যিই তিনি ভালোবাসতেন, তাহলে তিনি এমন একটি কাজ করতেন না। তাদের একটি মেয়েও রয়েছে। তিনি চাইলেই মেয়েটাকে নিয়েই সংসার করে যেতে পারতেন।”

This post was viewed: 1

আরো পড়ুন