Ridge Bangla

এক রাতেই ইরানের ১৪০ স্থাপনায় মার্কিন হামলা

ইরানের প্রায় ১৪০টি স্থাপনায় এক রাতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর দেশটির বিরুদ্ধে এটি মার্কিন বাহিনীর তৃতীয় দফার হামলা।

রোববার (১২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার জন্য ‘ইরানি বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে’ ইরানে তৃতীয় দফার অভিযান শেষ করেছে তারা।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌ সক্ষমতা, গোলাবারুদ মজুতকেন্দ্র, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র রয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা কমাতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ৩ দফার হামলায় ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, মে মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৪০ কোটি ব্যারেল তেলসহ বিভিন্ন পণ্য বহনকারী ৮০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সফলভাবে সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।

নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

ইরান জানিয়েছে, কয়েকটি জাহাজ একটি ‘অননুমোদিত পথে’ নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। গতিপথ পরিবর্তনের জন্য বার্তা দেওয়া হলেও জাহাজগুলো তা উপেক্ষা করে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিবৃতির প্রায় ১ ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান এর আগে বলেছিল, কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

This post was viewed: 1

আরো পড়ুন