Ridge Bangla

ইউএনও কার্যালয়ে জমা রাখা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীর ১ লাখ টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, দুইজনকে শোকজ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীর রেখে যাওয়া ১ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা পরিষদের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযুক্তরা হলেন উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম এবং মহম্মদপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল ইসলাম।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে আলোচনায় আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা মৌখিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিলে বিষয়টি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে শোকজ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার খালিয়া গ্রামের বাসিন্দা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী খুরশিদা বেগম কিছুদিন ধরে উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের উত্তর পাশে একটি খাটে বসবাস করছিলেন। সেখানে একটি নিরাপত্তা দেওয়াল নির্মাণের দাবিতে গত ১০ জুন তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এ সময় নিজের কাছে থাকা ১ লাখ টাকা ইউএনওর টেবিলে রেখে সেখান থেকে চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী আলামিন শেখ ও তুষার আহমেদ জানান, তাঁরা ওই নারীকে ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, খুরশিদা বেগম চলে যাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম এবং সেখানে উপস্থিত ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামকে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই নারী টাকা ফেরত পাননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইউএনও কার্যালয় থেকে তাঁর কাছে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, টাকাটি প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের কাছেই রয়েছে।

অন্যদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, টাকাটি কার কাছে রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। পরে অফিসে এসে কথা বললে বিস্তারিত জানানো যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, গত ১০ জুন ওই নারী তাঁর কার্যালয়ে এসে ১ লাখ টাকা রেখে চলে যান। তখন তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামকে দ্রুত টাকাটি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে জানতে পারেন, খুরশিদা বেগম এখনো টাকা ফেরত পাননি। এ ঘটনায় দুজনকে শোকজ করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

This post was viewed: 1

আরো পড়ুন