Ridge Bangla

আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে: আরাঘচি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরপর দুই দিন জাহাজে হামলার অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্র রাতভর ইরানে হামলা চালিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরানের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

রোববার (২৮ জুন) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমি ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছি। এ ছাড়া তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়েও অবহিত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালি ইরানের পূর্ণ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সব বাধা দূর করার পর এই নৌপথের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হবে। বর্তমানে আমরা সেটি নিয়েই কাজ করছি।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব কেবল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর ন্যস্ত। এ কাজের ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশ বা পক্ষের সংশ্লিষ্টতা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকের অধীনে এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা একতরফা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে প্রণালিটি পুনরায় চালু হওয়ার প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হবে।’

এদিকে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এক বিবৃতিতে বাহিনীটি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তেহরানের ওপর রয়েছে। তারা জানায়, এখন থেকে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার মতো যেকোনো অজুহাতে শত্রুপক্ষ আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থি উল্লেখ করে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চলমান সব প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাবে।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমান হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। এ হামলার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি, যেখানে হামলার কিছু অস্পষ্ট দৃশ্য দেখা যায়।

এদিকে আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় তাদের পাঁচটি উপকূলীয় অবস্থান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন