Ridge Bangla

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ ইউজিসির

দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচলিত বাজারমূল্যের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগভিত্তিক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ৩১টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ইউজিসির প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার কমিশনে অনুষ্ঠিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য প্রায় ১৫ টাকা। তবে পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক মডেল অনুসরণ করলে এই ব্যয় অর্ধেকেরও কমিয়ে আনা সম্ভব।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৪৭টি সরকারি এবং একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩১টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হলে এই সক্ষমতা প্রায় ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা যাবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ৩১টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক মডেলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ছিল ৭ টাকা ৫০ পয়সা। প্রকল্পের সক্ষমতা ৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়ার পর তা কমে ৭ টাকায় নেমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের মূল্য ৩ টাকা ৬৯ পয়সা এবং পাকিস্তানে ৩ টাকা ৯৩ পয়সা। বাংলাদেশেও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং শুল্ক ও কর কাঠামোর সমন্বয় করা গেলে উৎপাদন ব্যয় ৬ টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনা সম্ভব।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক এই মডেলে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ওপর। ফলে সরকারের প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধ করবে।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দরপত্র, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতাও হ্রাস পাবে।

ইতোমধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই মডেলের বাস্তবায়ন হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বড় পরিসরে প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

ইউজিসির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ব্যবহার গড়ে ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়িয়ে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করা।

This post was viewed: 3

আরো পড়ুন