Ridge Bangla

চট্টগ্রামের বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০টি পদক্ষেপ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় ১০টি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ১০টি পদক্ষেপ হলো-

১। প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক বন্যা ও পাহাড়ধসকবলিত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

২। চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

৩। সাধারণ ত্রাণ কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব সহায়তা দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

৪। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলার খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৫। পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

৬। চট্টগ্রাম বিভাগের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় অবস্থান করছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

৭। দুর্গত মানুষের সহায়তায় বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে মাঠে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী ও কোস্ট গার্ড সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

৮। বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

৯। দুর্যোগে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করছেন।

১০। ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

সরকারের আশা, দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

This post was viewed: 1

আরো পড়ুন