Ridge Bangla

চট্টগ্রামে বন্যা ও পাহাড়ধসে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার কাজ করছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪০ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সাজেকে আটকে থাকা প্রায় ৬০০ পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৫০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পর্যটকদেরও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে জনগণের জীবন, সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

This post was viewed: 3

আরো পড়ুন