আর্জেন্টিনা ও মিশরের বিশ্বকাপ ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে গাজা সিটির সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন গাজার মিশরীয় রিলিফ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি। বেসামরিক একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো এ হামলায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনি ইনফরমেশন সেন্টার ও আরাবি পোস্ট। সূত্র: নোভারামিডিয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় নিহত অন্যরা হলেন ১০ বছর বয়সী হামজা আল-দেরি, তার ৮ বছর বয়সী ভাই ফারি আল-দেরি এবং ৩৩ বছর বয়সী গাড়িচালক আহমেদ দাগমুশ।
মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি গাজার মিশরীয় রিলিফ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্বকাপ চলাকালে মিশরের ম্যাচগুলো বড় পর্দায় সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শনের আয়োজনও করছিল কমিটি। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
হামলার সময় নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের দেওয়া বক্তব্যের পর প্রতিশোধমূলকভাবে আল-ওয়াহিদিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একই বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর জয়টি ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেন হোসাম হাসান। সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর যেই হোক-আরব, ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকান-যদি ফিলিস্তিনিদের কষ্ট অনুভব না করেন, তাহলে তিনি তার মানবতার একটি অংশ হারিয়েছেন।’
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় চলমান যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, নিহতদের মধ্যে ৫৬৭ জন ফুটবলারও রয়েছেন।