যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ ক্রাউন কোর্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক যুবককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০ বছর বয়সী তারেক মিয়া নামের ওই যুবক ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী মেয়েশিশুকে ধর্ষণ এবং ৯ বছর বয়সী আরেক শিশুকে অনলাইনে গ্রুমিং করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতের মতে, তিনি এখনো মেয়েশিশুদের জন্য অত্যন্ত উচ্চঝুঁকি তৈরি করছেন।
তারেক মিয়া তিন বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে যান। তিনি ওয়েস্ট সাসেক্সের ওয়ার্থিংয়ে বাস করতেন। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মাধ্যমে ১২ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়েটির সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়। মেয়েটি নিজের বয়স জানালেও তারেক বারবার চাপ দিয়ে তাকে দেখা করতে রাজি করান। সে সময় তারেকের বয়স ছিল ১৭ বছর।
প্রথম দেখাতেই তারেক গাড়ি করে মেয়েটিকে এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি মেয়েটির ওপর নির্যাতন চালান। বাড়ির ভেতরে, গাড়ির পেছনসহ বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ সময় তিনি কোনো সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করেননি। মেয়েটির কোনো যৌন অভিজ্ঞতা ছিল না। ঘটনার পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আদালতে ভুক্তভোগী মেয়েটি বলেন, ‘আমার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। স্কুলে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ওই ঘটনা মনে পড়ে যায়। স্কুলে যেতে ভয় লাগে। ছয় মাস ধরে মায়ের সঙ্গে ঘুমাতে হয়েছে। দরজায় মাথা ঠেকিয়ে মেঝেতে শুয়েছি। আমি এখনো সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এটা আমার শৈশব, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে।’
মেয়েটির মা জানান, তার মেয়ের মানসিক ক্ষতি হয়েছে। সে এখন ভুল জিনিস দেখে ও শোনে। আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্মুখী হয়ে গেছে।
প্রবেশন রিপোর্টে বলা হয়েছে, তারেকের সাংস্কৃতিক পটভূমি মেয়েশিশুদের প্রতি তার মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
২০২৪ সালের মে মাসে তারেক দ্বিতীয় ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই শিশুর বয়স তখন মাত্র ৯ বছর ছিল। তিনি শিশুটিকে নিজের হস্তমৈথুনের ভিডিও পাঠান এবং যৌনকাজের ভিডিও পাঠাতে বাধ্য করেন। এরপর মেয়েটি খুব উদ্বিগ্ন বোধ করতে শুরু করে।
দ্বিতীয় ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি নাচের ক্লাস ছেড়ে দিয়েছি। স্কুলে মন বসে না। মায়ের কাছে থাকতে চাই। তিনি আমার ইমোশনাল পার্টনার।’ তার মা জানান, ঘটনার পর খুব ছোট বয়সেই মেয়েকে যৌনতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে হয়েছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারেক ঘটনাগুলোকে সিলি মিসটেক ও বয়সের দোষ বলে অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তবে জামিনে থাকাকালীনও তিনি অন্য শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালান। তার ডিভাইসে শিশু পর্নোগ্রাফিসংক্রান্ত উপাদানও পাওয়া গেছে।