Ridge Bangla

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার পদত্যাগ করতে পারেন: ট্রাম্পের দাবি

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করতে পারেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। একই সময়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতেও স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তিনি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছেন- অভিবাসন এবং জ্বালানি। নর্থ সি-তে তেল উত্তোলন চালু করুন। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’

ট্রাম্পের এমন মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাজ্যে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার খুব শিগগিরই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ধারণা, সোমবারের মধ্যেই তিনি সম্ভাব্য বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন।

অন্যদিকে বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, নিজ দল লেবার পার্টির ভেতর থেকেও চাপের মুখে রয়েছেন স্টারমার। দলের প্রভাবশালী নেতা অ্যান্ডি বার্নহামের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। আবার রাজনৈতিক চাপের কারণে নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে।

যদিও স্টারমার এখনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন, তবে লেবার পার্টির কিছু সদস্য মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

এপি বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমেছে। তিনি পদত্যাগ করলে গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার তালিকায় তিনি হবেন ষষ্ঠ ব্যক্তি।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্টারমার। দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর এই বিতর্ক আরও বাড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য দেখা গেছে। বিশেষ করে ন্যাটো, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান ইস্যুতে দুই নেতার অবস্থানে পার্থক্য ছিল। তবে গত সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে দুজনই অংশ নেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন শান্তি চুক্তি ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন