Ridge Bangla

কুড়িগ্রামে ৩৫ স্থানে নদীভাঙন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

কুড়িগ্রামে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে বর্তমানে জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার অন্তত ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৭ মিটারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯৮ মিটার নিচে। অন্যদিকে তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি কিছুটা কমে ২৯ দশমিক ৬৮ মিটারে নেমেছে, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৯ মিটার নিচে।

দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৬১ মিটারে, যা বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে পানি বেড়ে যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৮২ মিটার ও ২১ দশমিক ৪৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এসব পয়েন্টেও পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে, রোববার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরীতে ২৫ মিলিমিটার এবং কাউনিয়ায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

নদীর পানি বাড়ায় জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকার বাদাম খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ক্ষতি কমাতে অনেকেই অপরিপক্ব বাদাম তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ৩৫টি এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০টি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন