Ridge Bangla

বাংলাদেশ সীমান্তে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কৃষকদের বাধার মুখে শুভেন্দু সরকার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার প্রথম এক মাসে বিএসএফের কাছে ১২০ একর জমি হস্তান্তর করেছে। পর্যায়ক্রমে মোট ৬০০ একর জমি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মুর্শিদাবাদে জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে স্থানীয় কৃষকদের বাধার মুখে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন ও বিএসএফ।

মুর্শিদাবাদে জমি অধিগ্রহণ ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এবং এর বিরোধিতার কারণ তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি বা এপিডিআর। সংগঠনটির মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সম্পাদক রাহুল চক্রবর্তী প্রতিবেদনটি চিঠি আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছেন।

এপিডিআরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ মে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ব্লকের ঘোষপাড়া সর্বপল্লী ভূতগাড়ির মাঠে কৃষকদের তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করতে যায় বিএসএফ। এর প্রতিবাদে স্থানীয় কৃষকরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পাশের সড়ক অবরোধ করেন।

পরে পুলিশ ও বিএসএফ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি দখল না করার মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলে কৃষকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। ঘটনার পর এপিডিআরের একটি প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে।

পরিদর্শন শেষে সংগঠনটির কর্মীরা জানান, ভূতগাড়ির মাঠের ১৫ হাজার বিঘা তিন ফসলি জমির ওপর পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। উর্বর এই জমিতে সারা বছর পাট, গম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজির চাষ হয়।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার অধিকাংশ কৃষকের জমির পরিমাণ খুবই কম। কারও এক বিঘা, কারও দেড় বিঘা আবার কারও দুই বিঘা জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা বংশপরম্পরায় এসব জমিতে চাষাবাদ করছেন এবং সরকারি নথিতেও জমির তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।

স্থানীয় জলঙ্গি নদীর ভাঙনে এরই মধ্যে অনেক কৃষিজমি বিলীন হয়ে গেছে। কৃষকদের দাবি, অবশিষ্ট জমি হারালে তাদের জীবিকা মারাত্মক সংকটে পড়বে।

এলাকার হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কৃষকরাই জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করছেন। তাদের অভিযোগ, আগের সরকারের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা নতুন সরকারকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু নতুন সরকার এখন বিএসএফের মাধ্যমে জমি নেওয়ার চেষ্টা করছে। জমি রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

জেলা প্রশাসককে পাঠানো চিঠিতে এপিডিআর দাবি করেছে, কৃষকদের সম্মতি ছাড়া এই জমি অধিগ্রহণ পশ্চিমবঙ্গের আইন অনুযায়ী বেআইনি ও অসাংবিধানিক। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণেরও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।

এপিডিআরের দাবি, কৃষকদের তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি আদালতে প্রমাণের আগে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারী হিসেবে কাউকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা বন্ধ এবং বেআইনি ডিটেনশন সেন্টার অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

This post was viewed: 8

আরো পড়ুন