Ridge Bangla

কঠোর অবস্থান থেকে সরে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় ট্রাম্প, নেপথ্যে যেসব কারণ

ইরান ইস্যুতে শুরুতে কঠোর অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথে হাঁটতে হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া কোনো চুক্তি হবে না। তবে দীর্ঘ সংঘাত ও নানা চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সংঘাতের শেষ পর্যায়ে এসে দেখা যায়, আত্মসমর্পণের বদলে আলোচনাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছিল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাও ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ও বাড়ছিল। এই যুদ্ধে সামরিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা আফগানিস্তান বা ইরাক যুদ্ধের মতো বড় ব্যয়বহুল সংঘাতে রূপ নিতে পারত। এমন পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলতে পারত।

আন্তর্জাতিক মিত্রদের অবস্থানও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো দ্রুত উত্তেজনা কমানোর পক্ষে ছিল, যাতে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব না পড়ে। এই কূটনৈতিক চাপও ওয়াশিংটনকে আলোচনার পথে যেতে উৎসাহিত করে।

এ ছাড়া ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের আশঙ্কাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেহরান শুধু হরমুজ প্রণালি নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছিল ইরান।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক ব্যয়, জ্বালানি বাজারের ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে চুক্তির পথে এগিয়েছেন।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন