চীনের উহানের একটি গবেষণাগারে অর্থায়নের সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান মেডিকেল উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউচি যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসি গ্যাবার্ড। তার দাবি, ওই গবেষণাগার থেকেই কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
দায়িত্বের শেষ দিনে একটি নথি প্রকাশ করে গ্যাবার্ড দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার সময় বাইডেন প্রশাসনের মহামারি মোকাবিলা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ফাউচি। একই সঙ্গে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে করোনাভাইরাস নিয়ে পরিচালিত ‘বিপজ্জনক গেইন-অব-ফাংশন গবেষণার’ জন্য মার্কিন করদাতাদের অর্থ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছিলেন তিনি।
প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই নথির মাধ্যমে কোভিড-১৯ সম্পর্কে গোয়েন্দাদের তদন্তকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণে ফাউচির প্রত্যক্ষ ভূমিকা উন্মোচন হয়েছে। একই সঙ্গে এটাও প্রমাণ হয়েছে যে, ২০২৪ সালে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেয়ার সময় ভাইরাস গবেষণা নিয়ে কিছু জানতেন না বা অংশ নেননি বলে মিথ্যাচার করেছিলেন তিনি।’
গ্যাবার্ডের কার্যালয়ের দাবি, বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর স্বার্থ এবং ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘সর্বজনীন ভ্যাকসিন’ তৈরির উদ্দেশ্যে ‘ঝুঁকিপূর্ণ করোনাভাইরাস গবেষণায়’ অর্থায়ন করেছিলেন ফাউচি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গোয়েন্দাদের ভাইরাসটির প্রাকৃতিক ও প্রাণিজ উৎসের তত্ত্ব সমর্থনে প্রভাবিত করেন ফাউচি, যাতে তার বিপজ্জনক গবেষণা আড়াল করা যায়। পরে ফাউচি জাতীয় পর্যায়ের মহামারি-বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পান এবং প্রকাশ্যে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সেন্সরশিপকে উৎসাহিত করেন।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গোয়েন্দা প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া তুলসি গ্যাবার্ড বলেন, সত্য আড়াল করতে অ্যান্থনি ফাউচি যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, তা ‘ডিপ স্টেটের প্লে-বুক থেকে নেয়া। কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের অগণিত মানুষের জন্য অসীম কষ্ট ও দুর্ভোগ বয়ে এনেছে। বছরের পর বছর মিথ্যা, সেন্সরশিপ ও তথ্য গোপনের পর আমেরিকান জনগণ স্বচ্ছতা, সত্য এবং জবাবদিহিতা পাওয়ার অধিকার রাখে।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অ্যান্থনি ফাউচির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, প্রায় ৩৮ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফাউচি।