ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক নারীকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ওই নারী বাংলাদেশের নাগরিক এবং তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তার কাছ থেকে একটি জাল আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই নারী বেঙ্গালুরু থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে গুয়াহাটিতে পৌঁছান। লাগেজ সংগ্রহের সময় তার আচরণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই নারী নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে পরিচয় দেন। পরে বিস্তারিত তদন্তের জন্য তাকে আজারা থানার বর্ডার শাখা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মানব পাচার চক্রের সহায়তায় ওই নারী ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, ভারতে প্রবেশের আগে তাকে জাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই নারীর কাছ থেকে ‘পূজা দাস’ নামে একটি আধার কার্ড পাওয়া গেছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের একটি ঠিকানা উল্লেখ ছিল। কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভারতীয় পরিচয় নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতারণার মাধ্যমে ওই নথি তৈরি করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারাও ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর তার স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলায় শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
তদন্তকারীদের কাছে ওই নারী জানিয়েছেন, গুয়াহাটিতে থাকা প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার তাকে আসামের গোয়ালপাড়া জেলার একটি আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কীভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং জাল পরিচয়পত্র সরবরাহকারী চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।