Ridge Bangla

তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের কয়েকটি দেশ

পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও স্পেনের জনজীবন।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শিগগিরই এই পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা কম। বরং আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশের আবহাওয়া দপ্তর।

তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটিতে স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হয়েছে। ফরাসি আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলমান তাপপ্রবাহ দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে। আগামী দিনগুলোতে দেশটির তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

জার্মানিতেও তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। তবে সেখানকার পরিস্থিতি এখনো ফ্রান্সের মতো ভয়াবহ নয়। জার্মান আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে দেশটির কিছু এলাকায় বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের মতো তীব্র না হলেও আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বসন্ত পার করছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। এর ফলে তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার মতো ঘটনা আগের চেয়ে বেশি তীব্র ও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।

চলতি বছর অনেক এলাকার মানুষের জন্য এটি দ্বিতীয় দফার তাপপ্রবাহ। ফলে পশ্চিম ইউরোপের কয়েক কোটি মানুষ গ্রীষ্মের শুরুতেই তীব্র গরমের মুখে পড়েছেন।

পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও স্পেন আগামী দিনের জন্য সতর্কতা বাড়িয়েছে।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল ছিল ১৯৭৬ সালে। চলতি বছরের জুন মাসে সেই রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে ৪০ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা অ্যালেক্স ডিকিন জলবায়ু পরিবর্তনকে এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি এএফপিকে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা তাপমাত্রার আরও বেশি চরমভাবাপন্নতা দেখছি। এ কারণে সাম্প্রতিক গ্রীষ্মকালগুলো অনেক বেশি গরম হচ্ছে, বর্ষাকালে দেখা দিচ্ছে অস্বাভাবিক বর্ষণ।”

বর্তমান তাপপ্রবাহের কেন্দ্রস্থলে থাকা ফ্রান্সে আবহাওয়ার তথ্য সংরক্ষণ শুরু হয় ১৯০০ সালে। এরপর থেকে এবারই দেশটি সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল পার করছে।

তীব্র গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ। প্যারিসের বাসিন্দা প্যাট্রিসিয়া পিয়েরো এএফপিকে জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে তিনি বাসে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।

অবসরপ্রাপ্ত এই নারী বলেন, “এটা সত্যিই খুব অস্বস্তিকর। আমার মনে হয় মেট্রো হয়তো কিছুটা ভালো।”

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন