শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার বদ্ধপরিকর। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতা চেয়ে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
এদিকে, হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল থেকে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যদিও যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরুতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী জলকামানের ওপর উঠে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। তবে এ সময় কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে সরকার।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
আহতদের বিষয়ে বিবৃতিতে জানানো হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের কারো শরীরেই গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে সরকার জানায়, বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। সরকার শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।