রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেন সীমান্তের কাছে বেলারুশের ভূখণ্ডে থাকা সামরিক সরঞ্জাম এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে না নিলে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (১৯ জুন) রুশ বার্তা সংস্থা তাসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর সম্প্রতি মস্কোতে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় হামলার পরপরই বেলারুশকে ঘিরে এমন হুঁশিয়ারি দিলেন জেলেনস্কি।
কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় টাওয়ারের ওপর কিছু যোগাযোগ সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট চাইলে এসব সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে পারেন এবং এ জন্য এক সপ্তাহ যথেষ্ট সময়। তা না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেলারুশ থেকে আসা একটি শিশু ফুটবল দল বহনকারী বাসে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার কয়েক দিন পর প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে উদ্দেশ করে এই সতর্কবার্তা দেন জেলেনস্কি। তার দাবি পূরণ না হলে বেলারুশকে বড় মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর আগে লুকাশেঙ্কো জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন সীমান্তের পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উত্তপ্ত। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বেলারুশ নিয়ে একাধিক কঠোর মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি। এর আগে ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্তে নতুন ড্রোন ইউনিট মোতায়েনের বিষয়েও সতর্ক করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে মিনস্ক ও মস্কোর অভিযোগ, ইউক্রেন পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা বাড়িয়ে বেলারুশকে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থেকে মূলত দূরে রয়েছে বেলারুশ। দেশটি মস্কো ও কিয়েভকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বেলারুশকে ঘিরে জেলেনস্কির হুঁশিয়ারির কারণে দেশটির সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।