Ridge Bangla

মাসিক স্বাস্থ্যপণ্যের ওপর কর বাতিলের উদ্যোগ পাকিস্তানের

নারীদের মাসিকসংক্রান্ত পণ্যের ওপর আরোপিত বিক্রয় কর প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির এই সিদ্ধান্তকে নারীর স্বাস্থ্য ও অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বড় অর্জন হিসেবে দেখছে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক সংকোচের মধ্যে থাকা বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় আসাও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করছেন অধিকারকর্মীরা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ মাসিক স্বাস্থ্যবিধি পণ্য ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর থাকা ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব।

বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, নারীর স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এসব পণ্য প্রয়োজনীয়। এ কারণে এগুলোর ওপর কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দুই তরুণ আইনজীবীর আইনি উদ্যোগ। নারী অধিকারকর্মী ও আইনজীবী মনুর ওমর এবং কর আইনজীবী আহসান জাহাঙ্গীর খান গত বছর এ বিষয়ে একটি সাংবিধানিক রিট করেন।

তাদের যুক্তি ছিল, স্যানিটারি পণ্যকে বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে কর বসানোর কারণে অসংখ্য নারী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপণ্য কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তবে অধিকারকর্মীদের মতে, বিক্রয় কর প্রত্যাহারই পুরো সমস্যার সমাধান নয়। আহসান জাহাঙ্গীর খান বলেন, এটি কেবল একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। তাদের লক্ষ্য আমদানি শুল্ক, কাস্টমস ডিউটি ও কাঁচামালের ওপর থাকা করসহ সামগ্রিক কর কাঠামোতে পরিবর্তন আনা।

তার মতে, এসব করের কারণে স্যানিটারি পণ্যের বাজারমূল্য প্রকৃত দামের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

পাকিস্তানে এখনো মাসিক নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর হিসেবে দেখা হয়। অনেক দোকানে স্যানিটারি পণ্য এখনো বাদামি কাগজে মুড়িয়ে দেওয়া হয়। সচেতনতার অভাব ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটিতে ‘পিরিয়ড দারিদ্র্য’ বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউনিসেফের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ১২ শতাংশ বাণিজ্যিকভাবে তৈরি মাসিক স্বাস্থ্যপণ্য ব্যবহার করে। অথচ দেশটির মোট জনসংখ্যার ৪৮ শতাংশের বেশি নারী।

বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার অনেক নারী এখনো কাপড়, ন্যাকড়া বা কম খরচের অন্যান্য বিকল্প ব্যবহারে বাধ্য হন।

মনুর ওমরের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তিনি বলেন, রক্ষণশীল সমাজে মাসিক, স্তন ক্যানসার ও যৌনস্বাস্থ্যের মতো বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে মাসিক স্বাস্থ্যপণ্যের পাশাপাশি জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর থেকেও কর প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়ার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অধিকারকর্মীরা আশা করছেন, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানে নারীর স্বাস্থ্য ও প্রজনন অধিকার নিয়ে আরও বড় সামাজিক ও নীতিগত পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন