পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে পৃথক সন্ত্রাসী হামলায় ১৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত সোমবার (৬ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ জনে পৌঁছেছে।
গত বুধবার (৮ জুলাই) টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, নিহতদের মধ্যে ৪ জন বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে ৫৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
হামলার ঘটনায় ‘অনেক আফগান নাগরিক’ জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের (সন্ত্রাসীদের) তাড়া করব, আমরা আপনাদের আঘাত করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিটি সন্ত্রাসী, তাদের সহায়তাকারী, আশ্রয়দাতা, লালন-পালনকারী এবং যারা তাদের ঘাঁটি সরবরাহ করছে, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ১৮ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে সোমবার অপহরণ করা হয়েছিল। তারা বেলুচিস্তানের জিয়ারত জেলায় অবস্থিত বৃহৎ মাঙ্গি বাঁধ প্রকল্পে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই হামলায় আরও ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়।
পরে বুধবার বেলুচিস্তানের একটি মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালানো হলে ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হন বলে জানান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী।
আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ প্রদেশ। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে নিষিদ্ধঘোষিত পাকিস্তান তালেবান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর থেকে এ অঞ্চলে অন্তত ৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছে।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানকে তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।