Ridge Bangla

তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ৮০০টির বেশি স্কুল বন্ধ

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সজুড়ে কয়েক শত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার দেশটি চলতি বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।

দেশটির প্রায় অর্ধেক অঞ্চলে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ মাত্রার তাপ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, এবারের তাপপ্রবাহ ২০০৩ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতির মতো মারাত্মক হতে পারে। ওই সময় ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

ফ্রান্সের বোর্দো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দেশটির আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী সোমবার বিকেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বোর্দোর তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং প্যারিসের তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ৬০ হাজার স্কুলের মধ্যে ৮০০টির বেশি বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি আরও ১ হাজার ৮০০ স্কুলের পাঠদানের সময়সূচি পরিবর্তন করা হবে।

গত সপ্তাহ থেকেই কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভিভাবকদের সন্তানদের বাড়িতে রাখার অথবা দুপুরে স্কুল থেকে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অতিরিক্ত গরম শ্রেণিকক্ষ এড়াতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকালে প্যারিস অঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।

প্যারিস অঞ্চলের প্রধান ভ্যালেরি পেক্রেস বলেন, ‘আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। কারণ ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেললাইন সহ্য করতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীতে ঠাসা ট্রেনে শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথেষ্ট হবে না।’

মে মাসে অস্বাভাবিক গরমে ফ্রান্সের অর্ধেক অঞ্চলে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। এরপর এটিই দেশটিতে চলতি বছরের দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ।

বিজ্ঞানীদের মতে, ঘন ঘন তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট উষ্ণায়ন ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহকে আরও নিয়মিত, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র করে তুলবে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

মেতেও-ফ্রান্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের পর দেশটিতে রেকর্ড হওয়া ৫১টি তাপপ্রবাহের মধ্যে ৩৪টিই ঘটেছে ২০০০ সালের পর। এর মধ্যে ২৬টি ঘটেছে ২০১১ সালের পর।

২০০৩ সালে ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল ও স্পেনে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে বিপুল প্রাণহানি ঘটে। একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ওই তাপদাহে ১৬টি দেশে ৭০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন