চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ‘কেন্দ্র কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে গঠিত কমিটির কাগজপত্র বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের (মাধ্যমিক) নিকট জমা দিতে বলা হয়েছে।
বোর্ডের চিঠি অনুযায়ী, জেলা সদরের কেন্দ্রগুলোর জন্য জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা ও অন্যান্য স্থানের কেন্দ্রের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এতে বলা হয়, সদস্য হিসেবে থাকবেন জেলা বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের দুইজন প্রধান শিক্ষক। কেন্দ্রসচিব এই কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্র কমিটির চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হবেন। তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধান, ১৪৪ ধারা জারি এবং গোপনীয় প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
চিঠিতে পরীক্ষা শুরুর তিন দিন পূর্বে ট্রেজারিতে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রসচিব পরীক্ষা পরিচালনার জন্য অনধিক পাঁচ সদস্যের একটি পৃথক ‘পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি’ গঠন করবেন। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ প্রত্যবেক্ষক (ইনভিজিলেটর) নিয়োগ দিতে হবে। তবে প্রতি কক্ষে ন্যূনতম দুইজন শিক্ষক থাকতে হবে। পরীক্ষার অন্তত দুই দিন আগে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
পরীক্ষা পরিচালনার যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য ‘পরীক্ষা কেন্দ্র তহবিল’ শিরোনামে একটি যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র কমিটির চেয়ারম্যান ও সচিব যৌথভাবে এই হিসাব পরিচালনা করবেন এবং পরীক্ষা শেষে আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট বোর্ডে জমা দেবেন।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার সন্তান সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে তিনি কেন্দ্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এছাড়া, কেন্দ্র এলাকায় পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট নয় এমন ব্যক্তিদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা বলবৎ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।