অবিরাম বৃষ্টিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে বহু সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে, বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়েছে এবং যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে টানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও গাছ ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও পানির মধ্যে আটকা পড়েছে যানবাহন। বেহালা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার একাধিক সড়কে পানি জমে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে ঝড়বৃষ্টির সময় স্ট্র্যান্ড রোডে স্টেট ব্যাংকের সদর দপ্তরের কাছে একটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত গাছ সরানোর কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
টানা বর্ষণে শহরের নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে থাকলেও কলকাতা পৌরসভার অধিকাংশ পাম্পিং স্টেশন সচল রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি সরাতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, বৃষ্টি কমে এলে দ্রুত জলাবদ্ধতার পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি একটি মৌসুমি অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করছে এবং আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা এবং উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।
এছাড়া পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সপ্তাহের শেষ দিকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এ সময় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
আগামী সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা বহাল থাকবে। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।
এদিকে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা ও রায়ডাক নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় লাল সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ভারতে ২২টি রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উত্তাল সমুদ্রে পর্যটকদের নামা ঠেকাতে সমুদ্রসৈকতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন এবং সম্ভাব্য প্লাবিত এলাকাগুলোতেও প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।