ইরানে নতুন করে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আহভাজ শহরের উপকণ্ঠে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা কমিয়ে আনাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌ সক্ষমতা এবং উপকূলজুড়ে থাকা সামরিক সরঞ্জাম ও রসদসংক্রান্ত অবকাঠামো।
সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানিয়েছে, আগের রাতের অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগের দিনও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, আহভাজ শহরের উপকণ্ঠে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক উপ-গভর্নর ভালিউল্লাহ হায়াতি রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থাকে বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ‘ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র’ একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের কাছে চালানো ওই হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আহতদের উদ্ধারে চিকিৎসা ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।
পৃথক এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় শহর কোনারাক ও চাবাহারেও একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাসে অন্তত ৮টি বিস্ফোরণ হয়েছে। এছাড়া সিরিক ও জাস্ক বন্দরে ২টি করে এবং আবু মুসা দ্বীপে আরও ২টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আবু মুসা দ্বীপের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। হামলার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে চাবাহারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি বুশেহরে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একটি ব্যারাকে আগুন লাগার খবরও পাওয়া গেছে।
ইরানের একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, চাবাহারের ৩টি বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যে ২টি পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং বাকি লাইনটিও দ্রুত সচল করার কাজ চলছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় ইরানশাহর, বন্দর আব্বাস, কোনারাক, চাবাহার, বুশেহর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আক কালা এলাকায় আঘাত হানা হয়েছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চাবাহারে একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও একটি গুদামেও হামলা হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, আক কালায় একটি রেলসেতুও হামলার শিকার হয়েছে।