Ridge Bangla

আইন আছে, প্রয়োগ নেই: চাঁদাবাজি দমনে ধারাবাহিক ব্যর্থতা

বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের বাজার, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে শহরের পাড়া মহল্লায় থাকা একজন ফুটপাতের ব্যবসায়ীকেও দিতে হয় চাঁদা। চাঁদা যেন একটি স্বাভাবিক বিষয়। দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়, ক্ষমতার পালা বদল ঘটে, কিন্তু চাঁদা তোলার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয় না। যে দল আর যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক তাদের দলীয় ছত্রছায়ায় চলতে থাকে চাঁদাবাজি।

বাংলাদেশে চাঁদাবাজি আইনত দণ্ডনীয় হলেও এখন পর্যন্ত এ অপরাধে কারো বিরুদ্ধে কার্যত চূড়ান্ত সাজা কার্যকর হয়নি। পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করলেও আদালতে সাক্ষ্য প্রমাণের ঘাটতি ও তদন্ত দুর্বলতার কারণে বেশিরভাগ আসামিই খালাস পেয়ে যাচ্ছেন অল্পতেই। মুক্তি পেয়ে তারা আবারও একই কাজে জড়াচ্ছেন।

এসবের ঘটনার প্রেক্ষিতে আপাতত দেশে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। যার ফলস্বরূপ চাঁদাবাজি দমনে ধারাবাহিক ব্যর্থতা প্রতীয়মান হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কয়েকটি আইন প্রযোজ্য রয়েছে। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৮৫ ধারা অনুযায়ী ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়কে অপরাধ গণ্য করা হয়। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা।

দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৫০৬ ধারা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগে প্রযোজ্য। দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৪ ধারা একাধিক ব্যক্তি একই উদ্দেশ্যে চাঁদাবাজিতে যুক্ত হলে প্রয়োগ করা হয়। বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ (ধারা ৩) (২) চাঁদাবাজির ফলে জননিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়লে সরকার এই আইন প্রয়োগ করার ক্ষমতা রাখে।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ (ধারা ৩৮) সড়কে চাঁদা আদায় নিষিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ হিসেবে চাঁদাবাজিকে অন্তর্ভুক্ত করে ১৯৯২ সালে করা আইনে চাঁদাবাজির জন্য ২ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, গত এক বছরে ঢাকা মহানগরীতে ২৭৩টি চাঁদাবাজি মামলা রেকর্ড হয় এবং গ্রেপ্তার হয় ৪৬ জন। কিন্তু একটি মামলারও বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। যার দ্বারা বোঝা যাচ্ছে দেশে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে থাকা আইনগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর।

অপরদিকে, ক্রাইম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ১২৮টি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। তাদের মতে, অধিকাংশ ভুক্তভোগী নিরাপত্তা আশঙ্কায় অভিযোগ করেন না। ফলে চাঁদাবাজদের বড় অংশই পরিসংখ্যানের বাইরে থেকে যায়।

অপরাধ বিশ্লেষকদের দাবি, বেশিরভাগ চাঁদাবাজ রাজনৈতিক সুরক্ষা পেয়ে থাকেন। ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় তারা ‘মাসলম্যান’ হিসেবে ব্যবহৃত হন, আর বিনিময়ে নিশ্চিন্তে চাঁদা তোলার সুযোগ পান। তাদের মতে, উৎস বন্ধ না করলে শুধু আইন করে চাঁদাবাজি দমন সম্ভব নয়।

এই পোস্টটি পাঠ হয়েছে: ৩২

আরো পড়ুন