দেশের তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। খসড়া অনুযায়ী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা এবং প্রারম্ভিক পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আওতায় পৃথক বিভাগ গঠন করে লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিভাগটি একজন প্রধান নির্বাহী দ্বারা পরিচালিত হবে। আট সদস্যের থাকবে পরিচালনা বোর্ড। এটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ তাদের মূল বিনিয়োগের অতিরিক্ত হতে পারবে না।
খসড়া অনুযায়ী ব্যাংকটি জামানতসহ বা জামানত ছাড়া উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে। এছাড়া কারিগরি, প্রশাসনিক ও ব্যবসা উন্নয়ন সহায়তা দেবে, আয়–সৃষ্টিকারী প্রকল্পে অর্থায়ন করবে, ঋণগ্রহীতাদের সব ধরনের বীমা সুবিধা নিশ্চিত করবে, নবীন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। এ ছাড়া ব্যাংক আমানত গ্রহণ, সরকারি ও বিদেশি সহায়তা গ্রহণ, সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ, সংবিধিবদ্ধ সংস্থার শেয়ার ক্রয় ইত্যাদি কার্যক্রমও করতে পারবে। ব্যাংকের দাবির বিপরীতে দখলে আসা স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও বিক্রয়ের ক্ষমতাও থাকবে।
লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ব্যাংককে সরকারের গ্যারান্টিকৃত বিনিয়োগ ইন্সট্রুমেন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ আমানত রাখতে হবে। হিসাব নিরীক্ষার ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং ঋণগ্রহীতাদের স্বার্থরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তা প্রতিবেদনে উল্লেখের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।