জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে নির্দেশদাতার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরপরই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এক বিবৃতি। বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকবৃন্দ ব্যানারে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার পক্ষে ১,০০১ জন শিক্ষক প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে বিবৃতিতে যুক্ত নামের তালিকায় দেখা যায়, মোট ৬৫৯ জনের নাম যুক্ত করা হয়েছে, যাদের অনেকেই অভিযোগ করছেন তাঁদের অনুমতি ছাড়াই নাম ব্যবহার করা হয়েছে। খবর: দ্য ডিসেন্ট
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম প্রদীপকে বিবৃতিটির মূল স্বাক্ষরকারী বলা হলেও তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মরজিনা বেগম জানান, প্রদীপ দীর্ঘদিন ধরে ছুটিতে বিদেশে আছেন। বিবৃতিতে নাম থাকা চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ জন শিক্ষক জানিয়েছেন, তারা বিবৃতির বিষয়ে কিছুই জানেন না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নঈম উদ্দিন আওরঙ্গজেব বলেন, “আমি তো এ বিষয়ে কিছুই জানি না।” জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান অভিযোগ করেন, “বিনা অনুমতিতে এভাবে নাম দেওয়া ঠিক নয়।” রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এটি “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র” বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে কয়েকজন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই নাম যুক্ত করা হয়েছে। যা ‘ফৌজদারি অপরাধ’ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ সাদী। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার স্বীকার করেছেন যে তিনি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।