হরিণ শিকারের বিরুদ্ধে সুন্দরবনের মোংলা অংশের কানাইনগর এলাকায় কোস্ট গার্ড ও পুলিশের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার গভীর রাতে পরিচালিত এই অভিযানে একটি ঝুপড়ি থেকে ৩২ কেজি হরিণের মাংস, দুটি মাথা, আটটি পা এবং আড়াই হাজার মিটার ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে এক শিকারিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুন্দরবনের বিভিন্ন টহলফাঁড়িতে গত কয়েক দিনে ধারাবাহিকভাবে চালানো অভিযানে বিপুল পরিমাণ ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাত্র তিন দিনেই জব্দ হয়েছে ৯ হাজার ৪১০ ফুট ফাঁদ।
বন বিভাগের তথ্য মতে, শুধু বুধবারই চরপুটিয়া ও আশপাশের বনাঞ্চল থেকে পাওয়া গেছে প্রায় এক হাজার ফুটের মতো ফাঁদ। এর আগের দিন মঙ্গলবার বিভিন্ন খালসংলগ্ন অঞ্চল থেকে উদ্ধার হয় আরও কয়েকটি ফাঁদ, যার মধ্যে একটির দৈর্ঘ্য ৫০০ ফুট। সোমবার ও তার আগের দিনও বিভিন্ন টহলদল শত শত ফুট ফাঁদ জব্দ করে ধ্বংস করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পূর্বে দণ্ডপ্রাপ্ত শিকারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যেখানে কেওড়া গাছ ঘন সেখানে হরিণ চলাচল বেশি হওয়ায় ওইসব এলাকায় সাধারণত ফাঁদ পেতে রাখা হয়। ‘ডোয়া’ নামে লম্বা দড়ির ফাঁদ এবং ‘ছিটকে’ ফাঁদ দিয়ে চলার পথে হরিণ আটকানো হয়। শিকারিরা সাধারণত দড়ি নিয়ে বনে ঢুকে ফাঁদ বানায় এবং পরে এগুলো বস্তায় ভরে মাটির নিচে রেখে বহুবার ব্যবহার করে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বর্তমানে ‘প্যারালাল লাইন সার্চিং’ পদ্ধতিতে সারিবদ্ধভাবে হেঁটে টহল দেওয়া হচ্ছে, যাতে বনের ভেতর লুকিয়ে থাকা ফাঁদ দ্রুত শনাক্ত করা যায়। তিনি বলেন, হরিণ রক্ষা করা জরুরি। হরিণ না থাকলে বনের বাঘও টিকে থাকবে না। নিয়মিত টহলের ফলে অনেক ফাঁদ আগেই ধরা পড়ছে, এতে অসংখ্য হরিণ রক্ষা পাচ্ছে।