জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থয়ের সময় সংঘটিত গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের রায় আজ সোমবার ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুমতি সাপেক্ষে পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করবে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দার ব্যবস্থাও করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল জোরদার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, মহাসড়কসহ জনবহুল এলাকায় কড়া নজরদারি চলছে। ঢাকাসহ কয়েক জেলায় বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে রায় ঘোষণার আগ মুহূর্তে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় হামলার ঘটনা ঘটে। ডিএমপি জানিয়েছে, সাইবার ইউনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উস্কানিমূলক পোস্ট নজরদারি করছে। প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ এনেছে উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর নির্দেশ। মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে প্রায় ৮ হাজার ৭০০ পৃষ্ঠার তথ্য উপস্থাপন করা হয়, সাক্ষী করা হয় ৮৪ জনকে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, রায় যাই হোক, তা কার্যকর হবে। প্রসিকিউটরদের বক্তব্য, রায় প্রদানের ক্ষেত্রে নারী হিসেবে কোনো বিশেষ সহানুভূতি দেখানোর সুযোগ নেই। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।