ডব্লিউডব্লিউই রিংয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে দর্শকদের বিনোদন দেওয়া, অনুপ্রেরণা জোগানো ও একটি প্রজন্মের সঙ্গে বেড়ে ওঠা রেসলিং ইতিহাসের কিংবদন্তি ও ডব্লিউডব্লিউই সুপারস্টার জন সিনা গতকাল রেসলিং ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। এই বিদায়ে ডব্লিউডব্লিউই রিংয়ে আর দেখা যাবে না কুস্তিগীর জন সিনাকে। গতরাতে শেষবারের মতো রিংয়ে নামেন তিনি। তবে শেষ ম্যাচটি ভালো কাটেনি কিংবদন্তির। শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল ওয়ান অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত স্যাটারডে নাইটস মেইন ইভেন্টে তাঁর শেষ ম্যাচে তিনি হেরে যান গুন্থারের কাছে।
তার বিদায়ি ম্যাচের নাম ছিল ‘দ্য লাস্ট টাইম ইজ নাউ’। শেষ ম্যাচে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন গুন্থার। ১৭ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জন সিনা ও গুন্থারের ম্যাচটি ছিল তীব্র লড়াইয়ে ভরা। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় দুজনই একে অপরকে চাপে রাখেন। কিন্তু সিনা স্লিপার হোল্ডে ট্যাপ আউট করতে বাধ্য হন। স্লিপার হোল্ডে ট্যাপ আউট করে পরাজয় মেনে নেওয়াটা ছিল সিনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিস্ময়কর দৃশ্যগুলোর একটি। শেষ পর্যন্ত গুন্থার নিজের লক্ষ্য পূরণ করেন। এর মাধ্যমেই শেষ হয় সিনার রেসলিং জীবন।
সিনাকে সংবর্ধনা জানাতে কার্ট অ্যাঙ্গেল, মার্ক হেনরি, রব ভ্যান ড্যামের মতো কুস্তিগীররা রিংয়ে এসেছিলেন। দ্য রক এবং কেনের মতো কিংবদন্তিরাও সিনাকে তার ফাইনাল ম্যাচের আগে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। পুরো শো জুড়ে সিনার ক্যারিয়ার ও কৃতিত্ব তুলে ধরা হয়।
২০০২ সালে ডব্লিউডব্লিউইর ক্যারিয়ার শুরু করেন সিনা। ‘রুথলেস অ্যাগ্রেশন’-এর রুকি হিসেবে শুরু করে ‘ডক্টর অব থাগানোমিক্স’ গিমিক নিয়ে পরিচিতি পান। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথযাত্রায় ১৭টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন তিনি। রেসলারের বাইরে হলিউডের একজন জনপ্রিয় অভিনেতাও তিনি।
বিদায়ি ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হন সিনা। রিং ছাড়ার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ৪৮ বছর বয়সী রেসলার। রেসলিংয়ের ইতিহাসে খুব কম বিদায়ই এতটা আবেগঘন ও আলোচনার জন্ম দেয়। কার রুম থেকে রেসলাররা রিং ঘিরে ধরেন। সিএম পাঙ্ক ও কোডি রোডস তার কাঁধে নিজেদের চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্ট রাখেন।
ম্যাচ শেষে কিংবদন্তি কুস্তিগীররা জন সিনাকে তার দুর্দান্ত ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন জানান। একটি আবেগঘন ভিডিও প্যাকেজ চালানো হয়।
তারপর মাইক হাতে দর্শকদের ধন্যবাদ জানান সিনা। জানান, এত বছর ধরে দর্শকরা তাকে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন। তা সম্মানের। তারপর মঞ্চ ছাড়েন। রেসলিং থেকে জন সিনার বিদায় মানে শুধু একজন রেসলারের অবসর নয়। এটি একটি প্রজন্মের স্মৃতি, অনুপ্রেরণা ও আবেগের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি।