Ridge Bangla

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা লাভ করেছে, যখন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলা ইরানের পক্ষ থেকে চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চার দিন আগে ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর এটি মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের কনস্যুলেটগুলোতে হওয়া সর্বশেষ হামলা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে রিয়াদের কূটনৈতিক কোয়ার্টারে কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দূতাবাসের চারপাশে বিস্ফোরণের শব্দ এবং ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। হামলার পর শহরের কূটনৈতিক এলাকায় আরও দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে কিছু সীমিত আগুন লেগেছে এবং ভবনের সামান্য ক্ষতি হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, হামলার সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। হামলার প্রেক্ষাপট বেশ জটিল। সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবস্থানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে। সেই অভিযানের জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান উপসাগরের জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে।

ইরানি দিক দাবি করেছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা কৌশলগত প্রতিরক্ষা এবং পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং নৌবাহিনী বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি কর্তৃপক্ষ এই দাবিকে অস্বীকার করেছে। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ দেশের ওপর ইরানের হামলা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। এর ফলে গ্যাস ও তেলের সরবরাহে বিভ্রাট দেখা দিতে পারে।

হরমুজ প্রণালী ইতিমধ্যেই আইআরজিসি বন্ধ করেছে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৭০০ ডলারের ওপরে নিয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। ইউরোপে গ্যাসের দাম হুহু করে বৃদ্ধি পেয়েছে। নেদারল্যান্ডসের টিটিএফ হাব-এ এপ্রিলের আসন্ন চুক্তির দাম ৭১১ ডলারে পৌঁছেছে। রাশিয়ার মস্কো এক্সচেঞ্জে শেয়ার সূচক বেড়ে ২,৮৪৮ পয়েন্টে উঠেছে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারকরা সাময়িকভাবে বড় রাজস্ব উপার্জন করতে পারছেন।

This post was viewed: 3

আরো পড়ুন