ঢাকা- স্বপ্নের শহর, আবার আতঙ্কেরও শহর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভালো জীবনের আশায় এখানে ছুটে আসে। তবে এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ অপরাধচক্রকেও আরও সক্রিয় করে তুলেছে। রাজধানীতে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ মাসে নথিভুক্ত হয়েছে ৪৫৬টি হত্যা মামলা। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৩৩টি খুন। পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির তথ্য বলছে, এই সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়মিতভাবে লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। নদী, ড্রেন থেকে শুরু করে ডাস্টবিন- সব জায়গাতেই মিলছে অজ্ঞাত লাশ। পুলিশের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বেশির ভাগ মৃত্যুই হত্যাকাণ্ড; লাশ বিকৃত করার ঘটনাও বেড়েছে।
ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ধারাবাহিকভাবে খুনের মামলা বাড়ছে। চলতি বছরের জুলাইয়েই নথিভুক্ত হয়েছে সর্বোচ্চ ৭৫টি খুন। একই সময়ে জাতীয় পর্যায়ে ১৪ মাসে সারাদেশে হয়েছে ৪,১৭৭টি হত্যা মামলা।
সামাজিক–রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে গত ১৪ মাসে গণপিটুনিতে ২১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে- এ তথ্য দিয়েছে পুলিশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু অপরাধ নয়; পারিবারিক বিরোধ, প্রেমঘটিত সমস্যা এবং আর্থিক লেনদেন নিয়েও খুন হচ্ছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যার কৌশল পাল্টে যাচ্ছে। এখন অনেক খুনি আগেই লাশ গুম বা বিকৃত করার পরিকল্পনা করে। একইসঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহাও বেড়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বশেষ পাঁচটি হত্যাকাণ্ডেই ব্যবহৃত হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র।
যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ ও নারী নির্যাতন- সব মিলিয়ে অপরাধের সামগ্রিক চিত্র আরও জটিল হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া ৫,৭৫০টি অস্ত্রের মধ্যে ১,৩৪২টি এখনো উদ্ধার না হওয়া। পুলিশ বলছে, এসব অস্ত্রই এখন অনেক অপরাধের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা, সামাজিক অস্থিরতা, অসহিষ্ণুতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়হীনতা অপরাধ বৃদ্ধির বড় কারণ হয়ে উঠেছে।