মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্বের যেকোনো আদালতে একই ধরনের দণ্ডের ভিত্তি তৈরি করত। সোমবার রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “পৃথিবীর যেকোনো আদালতে এই প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে আসামিরা একই সাজাই পেতেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান ও নীতিমালা অনুসরণ করে ‘ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’র মতো জটিল অপরাধের বিচার সক্ষমতার সঙ্গে করছে, এবং এই রায়ে সেই সক্ষমতারই প্রমাণ মিলেছে।
তিনি বলেন, “অপরাধী যতই ক্ষমতাধর হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এই রায় তা আবারও প্রতিষ্ঠা করেছে।”
উল্লেখ্য, জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেয়। একই মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় প্রদান করেন। মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যাদের মধ্যে নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবার, আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ এবং স্টার উইটনেস হিসেবে নাহিদ ইসলাম ও ড. মাহমুদুর রহমান রয়েছেন।