Ridge Bangla

বিজ্ঞাপন-খরা ও নীরব চাঁদাবাজি: সংকটে দেশের গণমাধ্যম

বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো বর্তমানে এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। গত দেড় বছরে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনগুলোর আয়ের প্রধান উৎস বিজ্ঞাপন ৪০ শতাংশেরও বেশি কমে যাওয়ায় গণমাধ্যম খাত ঝুঁকিতে পড়েছে।

যদিও প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক মন্দা ও সরকারি বিজ্ঞাপন হ্রাসের কথা বলা হচ্ছে, তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক নতুন উদ্বেগজনক চিত্র। যেখানে উঠে এসেছে বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক নীরব চাঁদাবাজ চক্রের অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজির বর্ণনা।

গত দেড় বছরে গণমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রবাহ গড়ে প্রায় ৪৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে একদিকে অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বেসরকারি খাতের বিজ্ঞাপন ব্যয় সংকোচনের প্রবণতাকে দায়ী করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারি সংস্থাগুলো সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ রাখায় সরকারি বিজ্ঞাপনের হারও ৫৭ শতাংশের মতো কমে গেছে।

এমনকি ক্রীড়াঙ্গনেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আন্তর্জাতিক মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আগ্রহপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অর্থনৈতিক মন্দার চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে চাঁদাবাজি। কোনো প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার পরপরই বিভিন্ন পরিচয়ে একদল লোক এসে স্পন্সরশিপ বা আর্থিক সহায়তার নামে চাঁদা দাবি করতে শুরু করে। দাবি মেটানো না হলে তারা নানা ধরনের হুমকি, এমনকি মামলা করার ভয় দেখাচ্ছে।

একজন বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জানান, নতুন পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারের পরপরই ছাত্র পরিচয়ে তরুণরা এসে স্পন্সরের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। অস্বীকৃতি জানালে তারা রীতিমতো হুমকি দিতে থাকে।

একজন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী নতুন আইফোন বাজারে এনে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিপাকে পড়েন। বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরই বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল তার আউটলেট থেকে বিনামূল্যে ফোনসেট নেওয়ার জন্য যোগাযোগ শুরু করে।

এই ধরণের উৎপাত সহ্য করতে না পেরে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে বহু ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান তাদের নতুন পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা স্থগিত করছে। অনেকে আবার চাঁদাবাজদের নজর এড়াতে অফিসের সাইনবোর্ড পর্যন্ত নামিয়ে ফেলছেন, যেন তাদের উপস্থিতি সহজে চিহ্নিত না হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের উৎপাতের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও পণ্য প্রচার ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও গণমাধ্যম শিল্পের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

এই পোস্টটি পাঠ হয়েছে: ১৬

আরো পড়ুন