রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করছে ‘কাঁকন বাহিনী’সহ অন্তত ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। স্থানীয়দের অভিযোগ, এরা প্রায়শই বিনা কারণে গুলি চালায়, চাঁদাবাজি করে ও বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। কথায় কথায় মানুষ হত্যা যেন তাদের কাছে ডাল-ভাত।
চরাঞ্চলের ফসলি ক্ষেত, জমি, মাদক চোরাচালান, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসীদেরকে আশ্রয় দান, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে সবকিছুই যেন তাদের বন্দুকের নলে বন্দি হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি গত ২৭ অক্টোবর দৌলতপুর-বাঘা-লালপুর সীমান্তে এসব গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হওয়া গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অভিযান শুরু করে।
সর্বশেষ গত রোববার পুলিশ, র্যাব ও এপিবিএন সদস্যরা ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ নামে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এসব গোষ্ঠীর সাথে জড়িত ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। এসময় অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, মাদক, নৌযান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। তবে কোনো বাহিনীরই শীর্ষ নেতা ধরা না পড়ায় চর এলাকার সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক এখনও কাটেনি।
চরাঞ্চলে থাকা ১১টি বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কাঁকন বাহিনী। দলটির নেতৃত্বে আছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বাসিন্দা হাসিনুজ্জামান কাঁকন। ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ও বিদেশযাত্রার পর দেশে ফিরে যিনি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় বালুমহাল দখলে নেন এবং ধীরে ধীরে কাঁকন বাহিনী নামে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার দলে প্রায় ৪০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে, যারা চাঁদা আদায় থেকে শুরু করে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, নৌযান আটকে রাখা সহ নানা অপরাধে জড়িত।
কাঁকন বাহিনী ছাড়াও ওই এলাকায় মণ্ডল, টুকু, সাঈদ, লালচাঁদ, রাখি, শরীফ কাইগি, রাজ্জাক, চল্লিশ, বাহান্ন, সুখচাঁদ ও নাহারুল গোষ্ঠী সক্রিয়। এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, জমি দখল, খুন, মাদক ও অস্ত্র পাচারের পাশাপাশি ডাকাতিসহ নানা অপরাধে তারা জড়িত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাঘার গড়গড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, এলাকায় গড়ে ওঠা কিছু নতুন বসতি মাদক কারবারের সাথে জড়িত। এদের দ্বারা ‘খেত বাহিনী’ নামে নতুন আরেকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা এখন নিয়মিত। পলাতক ও শীর্ষ অপরাধীরা ধরা না পড়ায় মানুষের ভয় কাটছে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাহজাহান বলেন, অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।