Ridge Bangla

বালুচরে ফাহিম হত্যা: ‘মাইল্যা’ আতঙ্কে এলাকাবাসী

১০ নভেম্বর সিলেটের বালুচর এলাকায় অপরাধের গলি খ্যাত ২ নম্বর মসজিদের পাশে ফাহিম আহমদ নামে একজনের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলার দু’দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাহিম মারা যায়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়- ‘মাইল্যা’ নামের এক সন্ত্রাসীর সহযোগী দুলন গোমেজের বোন রাণী গোমেজ ফাহিমকে হত্যার আগেই একটি ভিডিওতে দাবি করেন, “মাইল্যা বলেছে সে একটি খুন করবে।”

সিলেটের বালুচর এলাকায় এই ফাহিম আহমদ হত্যার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম আতঙ্ক। স্থানীয়দের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে আলোচিত সন্ত্রাসী মাইল্যা। তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসী আলী হোসেন ওরফে ‘মাইল্যা’ ওই এলাকার অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, ‘৯০ এর দশকে কুমিল্লার নাসিরনগর থেকে পরিবারসহ সিলেটের বালুচর এলাকায় কাজের সন্ধানে আসেন মাইল্যার বাবা। এখানেই জন্ম নেওয়া মাইল্যা কিশোর বয়স থেকেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, জমি দখল ও চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে সহিংস অপরাধ- সকল ক্ষেত্রেই তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তার এই ক্ষমতা ও দৌরাত্যের উৎস কোথায় তা নিয়ে খোঁজ করে দেখা গেছে তার শেল্টার অদৃশ্য। এই অদৃশ্য শেল্টারের বলেই সে বালুচর এলাকাবাসীর জন্য হয়ে উঠেছে এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তবে জানা গেছে, কয়েকজন লন্ডন প্রবাসী তাদের জায়গা জমি দখলমুক্ত রাখতে বিভিন্ন সময়ে মাইল্যাকে ব্যবহার করে। এটা যে মাইল্যার শক্তির একটি অন্যতম উৎস তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

পুলিশও তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অন্তত ১৫টির অধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বালুচর সংলগ্ন জোনাকি আবাসিক এলাকার একটি দোকানঘরকে ঘাঁটি বানিয়ে মাইল্যা তার ২০-২৫ জন সহযোগী নিয়ে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বলে অভিযোগ। রাত হলে টিলা কাটা, মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডও তার নেতৃত্বে চলে, এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাইল্যার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছে বালুচর এলাকা। বাইরের এলাকা থেকে বালুচরে ডাকাতি, চাঁদাবাজি করতে আসাদেরকেও প্রত্যক্ষ আশ্রয়দানের অভিযোগ রয়েছে মাইল্যার বিরুদ্ধে। এসবের ফলে সন্ধ্যার পর বাইরে বেরোনো নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুসারে, জমি দখল ও চাঁদা দাবির মতো ঘটনায় বারবার মাইল্যার নাম উঠে এসেছে।

ফাহিম হত্যার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুব্রত দাশ জানান, হামলার পর ঘটনার ভিডিও ও আসামিদের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দিয়েছে। অভিযান চালিয়েও এখনও প্রধান আসামিদেরকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধারাবাহিক বৈঠক করে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছেন। তাদের চাওয়া, এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।

এই পোস্টটি পাঠ হয়েছে: ২৯

আরো পড়ুন