বতসোয়ানায় নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফি দেশটির রাষ্ট্রপতি ডুমা গিডিয়ন বোকোর কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করেন।
সাক্ষাৎকালে বতসোয়ানার রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আন্তরিকভাবে প্রশংসা করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি কৃষি ও পশুপালন খাতের ওপর বতসোয়ানার ২৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং বাংলাদেশের উত্তম কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে গভীর ধারণা পেয়েছে।
রাষ্ট্রপতি তার দেশের কৃষি খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। বতসোয়ানার বাজারে বাংলাদেশের উচ্চমানের ফার্মাসিউটিক্যাল ও ওষুধ পণ্য আমদানির আকাঙ্ক্ষাও তিনি তুলে ধরেন।
এর আগে, সোমবার হাইকমিশনার বতসোয়ানার আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। দুই পক্ষ টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দুটি বৈঠকেই হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফি কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, পশুপালন, বস্ত্র ও ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ–বতসোয়ানা সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি ২০২৬ সালে সুবিধাজনক সময়ে বতসোয়ানার রাষ্ট্রপতিকে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলসহ বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশ হাইকমিশন বতসোয়ানার সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৃষি-ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহ আহমেদ শফি। একই সঙ্গে তিনি বতসোয়ানায় অনাবাসিক হাইকমিশনারের দায়িত্বও পালন করছেন। দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।