Ridge Bangla

পাবনায় হঠাৎ পেঁয়াজের দরপতন, কৃষকেরা লোকসানে হতাশ

পাবনার বিভিন্ন হাট-বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম হঠাৎ অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। গেল সপ্তাহে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। কিন্তু মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দাম নেমে এসেছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এ হঠাৎ দরপতনে উৎপাদন খরচও তুলতে না পারায় কৃষকরা চরম হতাশ।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পেঁয়াজ ক্ষেত্র এ বছর মোট ১৬,৬৯০ হেক্টরে আবাদ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১,৬১০ হেক্টরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে এসেছে প্রায় দুই মাস আগে। শুরুতে প্রতি মণ দাম ছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা, পরে নেমে ১ হাজার ৩০০–১ হাজার ৪০০, এরপর আবার বেড়ে ১ হাজার ৮০০–২ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

হঠাৎ দাম কমায় কৃষকরা প্রতি মণে ৫০০–৬০০ টাকা লোকসান গুনছেন। সাঁথিয়ার তৈলকুপি গ্রামের রমজান আলী এবং কাশিনাথপুরের বাবলু শেখ বলেন, ধারদেনা করে আবাদ করা পেঁয়াজের দাম কমে খরচও উঠছে না। অনেকেই বাড়ি ফিরে কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।

হাটে আড়তদাররা জানিয়েছেন, মাঠে থাকা পেঁয়াজ পরিপক্ব হওয়ায় দ্রুত তোলা হচ্ছে। সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু ক্রেতার চাহিদা কম। রমজানের শুরুতে সাধারণত পেঁয়াজের চাহিদা কম থাকে। এছাড়া কয়েক দিনের মধ্যে নতুন হালি পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম আরও কমতে পারে।

পাবনা জেলা কৃষি তথ্য অফিসের কর্মকর্তা জানান, মুড়িকাটা পদ্ধতিতে অক্টোবর–নভেম্বরে আবাদ হয় এবং ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা হয়। হালি পদ্ধতিতে ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে আবাদ হয়, পেঁয়াজ তোলা হয় মার্চ–এপ্রিলে। কৃষকরা আশা করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলে ক্ষতি কিছুটা কমবে।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন