ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএলএনএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নিহত হয়েছেন। হামলা তেহরানে তার বাসভবনে চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৯ বছর বয়সী আহমাদিনেজাদ এবং তার দেহরক্ষী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তবে এ খবর এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলের শুরুতে তিনি শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্ব, কট্টরপন্থি এবং পার্লামেন্টের রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সমর্থন পেয়ে ক্ষমতায় আসেন। ২০০৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি পুনরায় ক্ষমতায় আসেন। তবে ওই নির্বাচনটি বিতর্কিত হিসেবে ধরা হয়। নির্বাচনের পর ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকারের নীতিনির্ধারণ ও মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ উত্থাপিত হয়।
তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষদিকে বিশেষ করে পারমাণবিক নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে। তার নীতির কারণে ইরানের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা দেশটিকে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে।
আহমাদিনেজাদের এই মৃত্যু সংবাদ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য প্রভাব বিষয়ক আলোচনা শুরু হয়েছে।