ইফতারের পর এক কাপ চা অনেকের কাছেই প্রশান্তির প্রতীক। তবে সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের প্রয়োজন ও স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনা করে চা বেছে নেওয়াই উত্তম। ভারী খাবারের পর হজমে সহায়তা এবং শরীরকে শান্ত রাখতে ক্যাফেইনহীন হারবাল চা বা ভেষজ ইনফিউশন ভালো বিকল্প হতে পারে। গোলাপ পাপড়ি, পুদিনা, দারুচিনি বা জাফরান দিয়ে তৈরি চা স্বাদ ও ঘ্রাণে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি উপকারীও।
ক্যামোমাইল চা স্নায়ু শিথিল করে, দুশ্চিন্তা কমায় এবং ঘুমের আগে পান করলে মনকে প্রশান্ত করে। পেপারমিন্ট চা বদহজম, গ্যাস্ট্রিক ও বমিভাব কমাতে কার্যকর। আদা চা হজমে সহায়ক, বমিভাব দূর করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, ইফতারের ভাজাপোড়ার পর যা বিশেষ উপকারী। জবা চা কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণকারীদের সতর্ক থাকা উচিত।
চা তৈরির ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানা প্রয়োজন। দুধ চায়ের জন্য পানি প্রায় ফুটন্ত (৯৫–৯৮° সেলসিয়াস) এবং গ্রিন টির জন্য অপেক্ষাকৃত কম (প্রায় ৮০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রা উপযুক্ত। চা পাতা ৩–৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে ভালো স্বাদ পাওয়া যায়। অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ইফতারের পরপরই কড়া ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় না খেয়ে হালকা ও উপকারী চা বেছে নেওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য শ্রেয়।
ইফতারের পর চা পান করা যেতে পারে। তবে সচেতনভাবে সঠিক ধরনের চা নির্বাচন করলেই তা হবে আরাম ও সুস্থতার এক সুন্দর সমন্বয়।