দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বাড়ছে। চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধ, নির্যাতন, চিকিৎসা না পাওয়া ও গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রা ছাড়িয়েছে বলে অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মাসে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অভিযানে কঠোরতা, রাজনৈতিক–সামাজিক অস্থিরতাকেই এজন্য দায়ী করেছে সংগঠনগুলো।
ভুক্তভোগী নিহতদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য বলছে, সংঘর্ষে ৮, নির্যাতনে ৪, হেফাজতে ১২ এবং গুলিতে ৭ জন নিহত হয়েছেন। আরও ৭ জন পুলিশের ভয়ে পালানোর সময় প্রাণ হারিয়েছেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব বলছে, জানুয়ারি থেকে চলতি নভেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত পুলিশের বিভিন্ন শাখা র্যাব, পিবিআই ও ডিবির হেফাজতে থাকা অবস্থায় অন্তত ১৫ জন মারা গিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কেবল মৃত্যুই নয়, এটি দায়িত্বহীনতা ও জবাবদিহিতার অভাবকে আরো স্পষ্ট করে তোলে।
২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন অনুযায়ী, হেফাজতে নির্যাতন প্রমাণিত হলে ন্যূনতম পাঁচ বছর কারাদণ্ড, আর মৃত্যু হলে যাবজ্জীবন সাজা পর্যন্ত হতে পারে।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন মনে করেন, হেফাজতে মৃত্যুর হার কমার কথা থাকলেও বাস্তবে তা থামছে না। তাঁর মতে, প্রতিটি ঘটনায় স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আইন ও গণতন্ত্র দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হেফাজতে মৃত্যুর শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার বলছে, গ্রেপ্তারের পর কী ঘটেছিল তার সঠিক ব্যাখ্যা তারা পাননি। ডিএমপির মিডিয়া শাখার উপকমিশনার তালেবুর রহমান জানান, প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত হয় এবং দোষ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।