Ridge Bangla

ছদ্মবেশী ‘পেনগান’: অপরাধ জগতের নতুন আতঙ্ক

প্রাথমিকভাবে দেখলে যে কেউ একে একটি সাধারণ কলম বলে ভুল করবেন। পকেটে গোঁজা থাকলে বোঝার উপায় নেই যে এটি কোনো লেখার সরঞ্জাম নয়, বরং একটি নিখুঁত মারণাস্ত্র।

সম্প্রতি ঢাকার কেরানীগঞ্জে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে উদ্ধার হওয়া এই বিশেষ আগ্নেয়াস্ত্র বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষক ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধীদের এই ছদ্মবেশী কৌশলের ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতের দিকে। পুরান ঢাকার নয়াবাজারে যুবদল নেতা রাসেলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় একদল দুর্বৃত্ত। গুলিটি তার বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। এই হত্যাচেষ্টা মামলার ছায়া তদন্তে নামে ডিবি লালবাগ বিভাগ।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাতে কেরানীগঞ্জ থেকে সায়মন ও সোহেল নামে দুই অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার করা হয় বিস্ময়কর এই পেনগান। সায়মন ও সোহেলের ভাষ্যমতে, ক্ষুদ্রাকৃতির এই অস্ত্রটি তারা ৮০ হাজার টাকায় কিনেছে।

মূলত পেনগান হলো একটি বিশেষায়িত আগ্নেয়াস্ত্র, যার গঠন হুবহু একটি কলমের মতো। এর ভেতরে অত্যন্ত সংকুচিত ফায়ারিং মেকানিজম থাকে। আকারে ছোট হওয়ায় এটি সহজেই পকেটে বা ব্যাগে লুকিয়ে রাখা যায়, যা তল্লাশির সময় নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। স্বল্প দূরত্বে লক্ষ্যভেদে এটি অত্যন্ত কার্যকর এবং প্রাণঘাতী।

ডিবি কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীতে এই প্রথম এমন আধুনিক ও ছদ্মবেশী অস্ত্রের সন্ধান মিলল। অস্ত্রটিতে কোনো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম বা চিহ্ন নেই, যা এর উৎস শনাক্ত করা কঠিন করে তুলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ভারত বা পাকিস্তান থেকে দেশে প্রবেশ করেছে।

অস্ত্রের এই রূপান্তর কেবল আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার নয়, বরং অপরাধীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার এক মরিয়া চেষ্টা। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে খুলনার ব্যবসায়ী সুমন হত্যা মামলার আসামি মোমিদ গাজীর কাছ থেকেও এমন পেনগানের তথ্য পেয়েছিল র‍্যাব। একের পর এক এমন ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিঃশব্দে ঢুকে পড়ছে ক্ষুদ্রাকৃতির এই মারণাস্ত্র।

বর্তমানে গ্রেফতারকৃত সায়মন ও সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। এই মারণাস্ত্রের সরবরাহকারী কারা এবং দেশের অন্য কোথাও এমন অস্ত্র আরও আছে কি না, তা বের করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কলম যেখানে জ্ঞানের প্রতীক, সেখানে সেই কলমের আদলে মৃত্যুবাণ বহন করা সমাজের জন্য এক অশনিসংকেত। অপরাধ দমনে তাই এখন সাধারণ নজরদারির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভরতা ও গবেষণামূলক তদন্তের বিকল্প নেই।

This post was viewed: 12

আরো পড়ুন