Ridge Bangla

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় বড় সাজ্জাদের ৩ সহযোগী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম মহানগরীতে এক বিশেষ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের তিন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি সাব-মেশিনগান (এসএমজি), একটি করে বিদেশি পিস্তল ও রিভলবার এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে ইমন, মোহাম্মদ মনির এবং মোহাম্মদ সায়েম। এদের মধ্যে আব্দুল কাইয়ুম ২০০০ সালে বহদ্দারহাটে সংঘটিত আলোচিত ‘আট খুনের’ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসভবনে চাঁদার টাকা না পেয়ে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই হামলার কথা স্বীকার করেছে।

পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে নাইন এমএম পিস্তল এবং থ্রি-টু বোর রিভলবারটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় নগরের ডবলমুরিং ও পাহাড়তলী থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। এছাড়া উদ্ধারকৃত সাব-মেশিনগানটি (এসএমজি) খাগড়াছড়ির একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে।

অভিযানের বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রথমে চকবাজার এলাকা থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মনির ও সায়েমকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মনিরের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, এই চক্রটি বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদের নির্দেশে নগরীতে চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তাদের কাছ থেকে নতুন সদস্যদের ‘শপথ গ্রহণ’ করানোর একটি ভিডিও ক্লিপও জব্দ করা হয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন