চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি আব্দুর রহমান মিয়া (৭০), যিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি হিসেবে আটক ছিলেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল ও কারা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহমান মিয়া চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার উত্তর আগ্রাবাদ পূর্ব মুহুরি পাড়ার মৃত জইন উদ্দিন প্রকাশ দরফ আলীর ছেলে। তিনি ২৪ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় হাজতি হিসেবে আটক আব্দুর রহমান মিয়াকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ ডিসেম্বর তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, আব্দুর রহমান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন, যা পরবর্তীতে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া তিনি উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে গত ১৮ জানুয়ারি তাকে ছাড়পত্র দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
শারীরিক অবস্থার পুনরায় অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী গত ২৬ জানুয়ারি তাকে আবারও চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত আব্দুর রহমান মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। গত ২৬ জানুয়ারি তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজতির মৃত্যুকে ঘিরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।