দেশজুড়ে নির্বাচনি উত্তেজনার মধ্যেই জানুয়ারি মাসে নির্বাচনি সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংস্থাটির মাসিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে সারাদেশে মোট ৬৪টি নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৫০৯ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমএসএফ জানায়, আগের মাস ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিসেম্বর মাসে সাতটি নির্বাচনি সহিংসতায় একজন নিহত এবং ২৭ জন আহত হন। তুলনামূলক বিশ্লেষণে সংস্থাটি বলছে, জানুয়ারিতে নির্বাচনি প্রক্রিয়া কার্যত প্রাণঘাতী সহিংসতার দিকে ধাবিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে সংঘটিত নির্বাচনি সহিংসতার বেশিরভাগই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ থেকে ঘটেছে। মোট ৬৪টি ঘটনার মধ্যে ৩৩টি ছিল বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ১৩টি বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নয়টি বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এবং অন্যান্য কয়েকটি সংঘর্ষ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে ঘটে। এমএসএফ জানায়, নির্বাচনি সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক নজরুল ইসলাম। এছাড়া শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের কটিয়াদি উপজেলার বিএনপি নেতা মো. কামাল উদ্দিন এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজাহার নিহত হন।
নির্বাচনি সহিংসতার পাশাপাশি জানুয়ারিতে ২৪টি রাজনৈতিক সহিংসতায় আরও ২১৫ জন আহত হন এবং দুষ্কৃতিকারীর হামলায় ছয়জন নিহত হন। এসব ঘটনায়ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষ জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে জানুয়ারি মাসে কারা হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময়ে মোট ১৫ জন বন্দির মৃত্যু হয়, যা আগের মাসের তুলনায় বেশি। নিহতদের মধ্যে চারজন ছিলেন কয়েদি এবং ১১ জন হাজতি। অধিকাংশের মৃত্যু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া জানুয়ারিতে ২৯টি গণপিটুনির ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ২৬ জন গুরুতর আহত হন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব ঘটনা ঘটে।