২০২৫ সালে রাজধানী ঢাকা শহরের সড়কগুলোতে ঘটেছে ৪০৯টি দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১৯ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৫১১ জন। নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জন পুরুষ, ২৫ জন নারী ও ১৮ জন শিশু।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো ‘২০২৫ সালে রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন’-এ এসব তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনের সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাতে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি। মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৫৬ শতাংশ ঘটেছে রাতে। এছাড়া সকালে ১৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বিকেলে ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ভোরে ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ, দুপুরে ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং সন্ধ্যায় ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারী যান। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের সম্পৃক্ততা ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। বাস ছিল ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনায় জড়িত। মোটরসাইকেলের হার ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এছাড়া থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা) ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার ৪ দশমিক ১২ শতাংশ এবং রিকশা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
দুর্ঘটনার পেছনে বহুবিধ কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল, বেপরোয়া গতি, সড়কের তুলনায় অতিরিক্ত যানবাহন, একই সড়কে বিভিন্ন গতির যান চলাচল, ফুটপাত দখল, ব্যবহার অনুপযোগী ফুটওভার ব্রিজ, সঠিক সড়ক সাইন ও মার্কিংয়ের অভাব, পথচারী ও চালকদের অসচেতনতা এবং সড়ক ও গণপরিবহনে চাঁদাবাজি।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা কমাতে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, বাসের জন্য আলাদা লেন ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করা এবং উন্নত বিকল্প তৈরি করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ।
এছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, যথাস্থানে ব্যবহার উপযোগী ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, বিআরটিএ, ডিটিসিএ, ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, হাইড্রোলিক বহুতলবিশিষ্ট পার্কিং স্টেশন নির্মাণ, রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস-আন্ডারপাস স্থাপন এবং রাজধানীর চারপাশে বাইপাস সড়ক নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণা ও গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনা পর্যালোচনা ও মন্তব্য অংশে বলা হয়েছে, রাজধানীতে যানবাহন ব্যবস্থাপনার চরম অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বাইপাস সড়ক না থাকায় ভারী মালবাহী যানগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে, যার ফলে পথচারীরা রাস্তা পারাপারের সময় বেশি হতাহতের শিকার হন।
যানজটজনিত চাপের ফলে চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহানি বাড়ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বর্তমানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর এলাকা সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।